কোলকাতা নয় যোব চার্ণকেরঃ

সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদ গঠিত হওয়ার পর পরিষদ যেসব কাজ করেছেন সেগুলির মধ্যে অন্যতম হল কলিকাতা উচ্চ আদালতের রায়ে ১৬৯০ খ্রিঃ ২৪শে আগস্ট কলিকাতার জন্মতারিখকে অসত্য উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে নস্যাৎ করা 
  এই অসত্যের অপমৃত্যু ঘটানোর জন্য কোলকাতার সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার প্রশংসার দাবি রাখে। জলাজঙ্গলাকীর্ণ নিম্ন বঙ্গ ক্রমশ সমতট বা সমভূমিতে পরিণত হওয়ার প্রায় প্রথমাবস্থা থেকেই সাবর্ণ বংশধরগণ বিজ্ঞানসম্মতভাবে জমি ভরাট করে বসতি, ব্যাবসা এবং চাষাবাদের প্রচলন করেছেন।করেছেন।সাবর্ণ রায় চৌধুরীর বংশধরগণ বিশেষ উদ্দ্যোগী হয়ে হালিশহর, নিমতা, বিরাটি, দমদম, বরানগর, কলিকাতাগোবিন্দপুরসুতালুটা(সুতানুটি) প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন। দমদমের কাছারিবাড়ী, লালদিঘির কাছারিবাড়ী, লালদিঘির নামকরণ, বড়িশার কাছারিবাড়ী, কালীক্ষেত্র বা কালীঘাটের কালীর মহিমা প্রচার, হালদারদের পুরোহিত হিসাবে নিয়োগ এই সবই যোব চার্ণকের আগের সময়ের উন্নতির প্রমাণ।কোন জীব বা প্রাণী অথবা কলকারখানার উৎপন্ন কোন বস্তু বিশেষ দিনে বা ক্ষণে জন্মাতে পারে তবে গ্রাম-শহর-নগর-পাহাড়-নদ-নদী বিশেষ দিনে জন্মায় না 
   তাছাড়া ১৪৯৫ খ্রিঃ বিপ্রদাস পিপ্পলাই তাঁর "মনসামঙ্গল কাব্যে" কলিকাতার উল্লেখ পাওয়া যায় ১৫৯৬ খ্রিঃ আবুল ফজলের "আইন--আকবরি" গ্রন্থে কলিকাতার উল্লেখ আছে সুতরাং কলকাতার জনক যোব চার্ণক হয় কীভাবে? তাছাড়া ১৬৯০ খ্রিঃ ২৪ আগস্ট কলিকাতার স্বত্বাধিকারী সাবর্ণ চৌধুরীগণ  
   ২০০১ খ্রিঃ আগস্ট সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদের উদ্দোগে কলিকাতা উচ্চ আদালতে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয় এই জনস্বার্থ মামলার গবেষক রাধারমণ রায়, ঐতিহাসিক সুধীন্দ্রকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়, আইনজীবী দীপক সেন, ঐতিহাসিক ব্রতীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, ডাক্তার সুবীর দত্ত বড়ি বিবেকানন্দ কলেজের অধ্যাপিকাগণ মোট জন বুদ্ধিজীবী সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদ মামলা দায়ের করেন তৎকালীন মাননীয় বিচারপতি শ্ অশোককুমার মাথুর এবং মাননীয় বিচারপতি গিরীশ গুপ্তের এজলাসে মামলার শুনানি শুরু হয় সাবর্ণ পরিষদের পক্ষে শ্রী অজিত কুমার পাঁজা স্মরজিৎ রায় চৌধুরী সাওয়াল করেন 
  ২০০২ খ্রিঃ কলিকাতা উচ্চ আদালত পাঁচজন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন- . নিমাই সাধন বসু, মাননীয় শ্রী বরুণ দে, শ্রী প্রদীপ সিনহা, শ্রী সুশীল চৌধুরী এবং শ্রী অরুণ দাশগুপ্ত সেই তদন্ত কমিটি ২০০২ খ্রিঃ ১১ই নভেম্বর প্রতিবেদন পেশ করেন সেই প্রতিবেদনে মাননীয় বিচারপতি অশোককুমার মাথুর বিচারপতি জয়ন্ত বিশ্বাস আদালত  জনসমক্ষে পড়ে শোনান-
"In the final analysis, neighter Job Charnok can be regarded as the founder of Calcutta, nor claim that Calcutta was born on 24th August, 1690..... its origin is a part of a general process of rural settlement, clusters of which agglomerated  in the last decade of the 17th century, into the English Company's trading factory. This grew into the town in the 18th century......"
  
এরপর ২০০৩ খ্রিঃ ১৬ই মে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার এবং কলিকাতা পৌরসভার সম্পূর্ণ সমর্থনে কলিকাতা উচ্চ আদালত সাবর্ণ রায় চৌধুরী পরিবার পরিষদ এবং ৯জন বুদ্ধিজীবীর পক্ষে রায়দান করলেন উক্ত তারিখটি কলিকাতার ইতিহাসের এক উজ্জ্বল তারকা চিহ্নিত বিজয় দিবস হিসাবে নির্দিষ্ট হয়ে রইল

Comments